দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরিধি সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে এবার বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নিবন্ধিত দামি গাড়ির প্রকৃত মালিকরা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দিচ্ছেন কি না এবং তাঁদের প্রদর্শিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির ক্র মূল্য সঙ্গতিপূর্ণ কি না-তা যাচাইয়ে মাঠে নামছেন কর কর্মকর্তারা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজের সঙ্গে করদাতাদের আয়কর নথি মিলিয়ে দেখার বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কর কমিশনারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে কর ফাঁকি শনাক্তে কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদলকে আরো সক্রিয় করা, উৎস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৭১৯টি গাড়ি সংশ্লিষ্ট মালিকদের আয়কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে এক হাজার ৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বিআরটিএর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছর সিআইসি ৪০৯ জন গাড়ির মালিকের সন্ধান পেয়েছিল, যাঁরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে ব্যবহার করছেন এবং বিআরটিএ থেকে গাড়ির নিবন্ধনও নিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ গাড়ির মালিকানা থাকলেও তাঁরা আয়কর নথির আওতায় ছিলেন না।
এ ছাড়া কর নথিতে দেখানো হয়নি—এমন এক হাজার ৩৩৯টি গাড়ির তথ্যও পেয়েছে সিআইসি। এসব গাড়ির মধ্যে টয়োটা, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিস বেঞ্জ, জিপ, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জ রোভার, পোর্শে, জাগুয়ার, বেন্টলি, রোলস রয়েস, ক্যাডিলাক, মাসেরাতি, টেসলা, ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ড রয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এসব গাড়ির প্রতিটির দাম এক কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বা তারও বেশি।
গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও সিসি অনুযায়ী এসব গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করও তুলনামূলক বেশি। ফলে কোনো ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি থাকার পরও আয়কর নথিতে সেটি উল্লেখ না থাকলে তার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদল নিজ নিজ এলাকায় উচ্চমূল্যের গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাই করবে। যাঁরা রিটার্ন দাখিল করছেন না কিংবা রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করেছেন, তাঁদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের নয়, আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে আরো কয়েকটি ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উৎস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথির তথ্য সমন্বয় করা হলে কর ফাঁকির ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হবে। বিশেষ করে বিআরটিএর গাড়ির মালিকানার তথ্য ব্যবহার করে আয় ও সম্পদের অসামঞ্জস্য খুঁজে বের করা সম্ভব।
কেএম