দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের কড়া মন্তব্যে সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা জোরালো হওয়ায় বুধবার সীমিত পরিসরে লেনদেনে স্বর্ণের দাম কমেছে। এর সঙ্গে শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলারও, যা অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩১৬ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমেছে। গ্রিনিচ মান সময় ৮টা ৪৭ মিনিটে এই দাম ছিল। অন্যদিকে, ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের আগাম চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৪ ডলারে।
মার্কিন ডলার দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রায় স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়েছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের সংকীর্ণ পরিসরের মধ্যেই লেনদেন হচ্ছে। ফেডের কর্মকর্তাদের মন্তব্য এবং এর ফলে মার্কিন সুদের হার, বন্ডের মুনাফা ও ডলারের ওপর প্রভাবের পাশাপাশি তেলের দামের ওঠানামা স্বল্পমেয়াদে বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করছে।
রিচমন্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট টম বারকিন মঙ্গলবার বলেন, সুদের হার বাড়ানো এবং আরও বাড়ানোর আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা কমাতে পারে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি না কমিয়েও পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
গত সপ্তাহে ফেড নীতিনির্ধারণী সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বছরের শেষের আগে আরও এক দফা সুদের হার বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।
মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বাড়লে এর আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। বাজারে অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৫৩ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। তবে জাতিসংঘে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিএমআইয়ের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, ২০২৬ সালের পর দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম কমতে পারে। দশকের শেষভাগে বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াই স্বর্ণের দাম কমার প্রধান কারণ হতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩৯ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৯৪ দশমিক ২৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮৫ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
/অ