দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করতে ‘উদ্যোগ’ নামে নতুন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ হাজার তরুণকে নির্বাচিত করে ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসূচিতে নির্বাচিত একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ এই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে না; ব্যবসার প্রয়োজন ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে এ কর্মসূচির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। দেশের অন্যান্য জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উদ্যোক্তাদের জন্য আবেদন নেওয়া হবে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি-উদ্যোগ’-এর নীতিমালা প্রকাশ করে। পরে তা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সম্ভাবনাময় তরুণদের চিহ্নিত করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
যেভাবে আবেদন
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদন করা যাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় থাকা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায়। ওই ব্যাংকে আগে থেকেই হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি এবং সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দিতে হবে। এছাড়া উদ্যোক্তা উন্নয়ন বা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ থাকলে সেটিও জমা দেওয়া যাবে। স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।
প্রতিটি উপজেলায় তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্য থেকে একটি লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। উপজেলা পর্যায়ের আবেদনগুলো উপজেলা লিড ব্যাংক এবং জেলা পর্যায়ের আবেদনগুলো জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।
ঋণ মিলবে যাচাইয়ের পর
কর্মসূচিতে নির্বাচিত হলেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদের নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে।
কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
আবেদনকারীর ব্যবসার ধরন, সম্ভাব্যতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ যাচাই করে অর্থায়ন নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও সম্ভাব্য ব্যয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ঋণ ও অনুদান সমান অনুপাতে
কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসা শুরু বা পরিচালনায় ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে উদাহরণ হিসেবে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণ ও অনুদানের অনুপাত হবে ৫০:৫০। উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে পাওয়া অর্থ থাকলে সেটিও সামগ্রিক অর্থায়ন পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হবে।
শুধু অর্থ দেওয়ার মধ্যেই কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ থাকছে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে। ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ছাড়া প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো ধরনের তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, সিআইবি এবং লেনদেন তদারকিসহ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে অনুসরণ করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
যে আই