দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি হাসপাতাল) পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে অর্জিত লভ্যাংশের পরিবর্তে মোট আয়ের ওপর অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নেওয়া এই অর্থ আদায় এবং সার্বিক অডিট আপত্তি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, গঠিত সাব-কমিটিকে সরেজমিনে অনিয়ম তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংবিধানিকভাবে এক নম্বর কমিটি হিসেবে স্বীকৃত। সরকারের বর্তমান ও অতীতের সব ব্যয় পর্যালোচনা এবং অডিট আপত্তির বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এ কমিটির মূল দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মঙ্গলবারের বৈঠকটি পরিচিতিমূলক হলেও কার্যকর ফলাফলের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আপত্তি নিষ্পত্তি হলেও বাকি বিষয়গুলো তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একটি প্রধান অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরে কমিটির সভাপতি বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লভ্যাংশের ৩০ শতাংশ বিশেষজ্ঞদের পাওয়ার কথা। কিন্তু নিয়ম অনুসরণ না করে মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ অর্থ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১০০ টাকা আয় এবং ৯০ টাকা ব্যয় হলে অবশিষ্ট ১০ টাকার ওপর লভ্যাংশ হিসাব করার কথা। কিন্তু পুরো ১০০ টাকার ওপর লভ্যাংশ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্পষ্টতই আইন লঙ্ঘন। এ অর্থ যেকোনো মূল্যে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে আদায়ের অগ্রগতি কমিটিতে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি আরও জানান, বহু পুরোনো অডিট আপত্তির পরিবর্তে নিকট অতীতের, বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালের অডিটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারসহ বিভিন্ন সরকারের আমলের অডিট আপত্তিও পর্যায়ক্রমে সামনে আনা হবে। বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠান ও বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিটির প্রতিটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি।
এমএস/