দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নবাগত পুলিশ কমিশনার।
মাহবুবুর রশীদ বলেন, ‘আমি এখানে ঘটনাস্থল দেখতে এসেছি। এই ঘটনা এবং মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্নও আসবে। সেসব প্রশ্নের পেশাদারিত্বের সঙ্গে জবাব খুঁজে বের করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজগুলো করছি।’
তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি অভিযোগ ও আলোচনার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ জবাবদিহির মাধ্যমে আদালতে সঠিক অভিযোগপত্র দাখিল করাই পুলিশের লক্ষ্য।
আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে কমিশনার বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো এটি শুনেছি। আমি রংপুরে কেবল গতকাল যোগদান করেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটি অপরাধস্থল, সেখানকার আলামত সংগ্রহ করা আছে।’
আরপিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো সূত্র থাকলে জানাবেন, আমরা তদন্ত করব। এটা পুলিশের কাজ, তবে সবার কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয়, এটি দেশের সমস্যা এবং এখন একটি সামাজিক সমস্যাও। আজ সকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পারবেন।’
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পরদিন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিনাত আলী মামলাটির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।
এমএম/