দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো এবং প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত একজনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেব এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) ও জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। নুরন্নবী ও সোহেল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়ের কর অঞ্চল-২-এ অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। জুলফিকার আলী বর্তমানে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত এবং সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
সিআইডি জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনের ভিত্তিতে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য গত ৫ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১১২ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
যোগদানের সময় আবেদনপত্র, শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইয়ের একপর্যায়ে কয়েকজন প্রার্থীর হাতের লেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মো. কামাল উদ্দিন, মো. নাসফুরুল্লাহ ও মো. সুজন স্বীকার করেন, লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় তাদের পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় মামলা করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীদের পরিবর্তে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করত। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র সরকারি চাকরির নিয়োগে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই পৃথক অভিযানে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে এবং জুলফিকার আলীকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।