দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাঁচ দিন আগে খুন হন জাতীয় পার্টি (জেপি) নেতা আবদুস সালাম মিয়া। এরইমধ্যে তার এই খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেওয়ায় খুন হন তিনি। খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সম্পর্কে মা-মেয়ে। তারা এ কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।
বুধবার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানা যায়, অভিযুক্তরা জানিয়েছে তাদের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে নিহত সালামের পরিচয় ছিল। সরকারি চাকরি পাইয়ে দিতে সহায়তার প্রলোভনে সালাম ও অভিযুক্ত মেয়েটির মধ্যে প্রথমে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। তবে, কিছুদিনের মধ্যে মেয়েটি বুঝতে পারে সালাম তাকে চাকরির বিষয়ে সহায়তা করতে পারবে না। পারিবারিকভাবে এ বিষয়গুলো জানাজানি হলে অভিযুক্ত এ সম্পর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। কিন্তু সালাম তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও গ্রেপ্তারকৃত মেয়েটির পরিচিতজনদের কাছে ছড়িয়ে দেবার ভয় দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখায় চাপ দিতে থাকে। মেয়েটির পরিবার এ নিয়ে বিব্রত হয়ে পড়ে এবং এ যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে থাকে।
ঘটনার দিন নিহত ব্যক্তি ও মেয়েটির সঙ্গে পূর্ব কথোপকথনের সূত্রে আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে সালাম মেয়েটির বাসায় পৌছায়। এ সময় মেয়ের মা ও সালামের সঙ্গে একে অপরের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটি শুনে আশেপাশ থেকে লোকজন ছুটে আসে। লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মা ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সালামকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। তবে, সালামের আসার বিষয়টি মা ও মেয়ের মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী লোক আগে থেকেই জানতেন মর্মে জানা গেছে। তারা ঘটনাস্থলে এসে সালামকে আবারও মারপিট করে ও গুরুতর আহত সালামকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে।
মূলত আহত সালামকে আটকে রেখে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় ও বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্য থেকে মা ও মেয়েসহ তারা এ ধরণের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিল। শারীরিক সমস্যা ও মারপিটের কারণে সৃষ্ট জখমের তৈরি হলে সেখান থেকে দীর্ঘক্ষণ রক্তক্ষরণ হবার এক পর্যায়ে সালামের অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় অভিযুক্তের মধ্যে কয়েকজন ও মেয়েটির মা আহত সালামকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বের হয়। অবস্থা গুরুতর হবার কারণে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু পথিমধ্যে সালাম মৃত্যুবরণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা মাঝপথেই নেমে যায় এবং মেয়েটির মা সালামকে জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে রেখে চলে যান-বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে ৭ (সাত) দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। অচিরেই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে বিজ্ঞ আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে জাতীয় পার্টি (জেপি) নেতা আব্দুস সালাম মিয়া (৬০) মরদেহ শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।