দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজদের অঘোষিত রাজা মানিক ও দীন ইসলাম। এদের মধ্যে একজন নিরাপত্তা প্রহরী হয়েও বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক, অন্যজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও করেছেন নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়।
আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী মানিকের হাতে যেন আলাদ্দিনের চেরাগ। কাগজে-কলমে নিরাপত্তা প্রহরী হলেও কাজ করেন অফিস সহকারী হিসেবে। সহজেই করতে পারেন কঠিন সব কাজ। আর এভাবেই দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক বছরের ব্যবধানে মানিক বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
সাভারের অভিজাত এলাকা পশ্চিম ব্যাংক টাউনে জায়গা কিনে দোতলা বাড়ি করেছেন মানিক। রয়েছে একাধিক প্লটও। তবে স্থানীয়রা মানিককে চেনেন এসিল্যান্ড অফিসের বড় কর্মকর্তা হিসেবে।
মানিকের সন্ধানে দুই দিন আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি তাকে। দেশ টিভি টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই অফিস থেকে সটকে পড়েন মানিকসহ অন্যান্য বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও। এরপর মানিকের বাসায় গিয়ে তাকে পেলেও কোটি টাকার সম্পত্তির বৈধ আয়ের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে, আশুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন দীন ইসলাম। সরকারি কাগজপত্র নয়-ছয় এবং দালালির মাধ্যমে কয়েক বছরের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পদ অর্জনকারী দীন ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে তদন্তে নামে দুদক। দুর্নীতির অভিযোগে তাকে বরখাস্তও করা হয়। তবে বরখাস্ত হলেও বন্ধ হয়নি তার কার্যক্রম ও দুর্নীতি।
দেশ টিভির অনুসন্ধানে দেখা যায়, দীন ইসলামের আয়করের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তিনি ১কোটি ৩৫ লাখ ৬১হাজার ৯৭৪ টাকা পরিমাণের সম্পদের মালিক। আর তার স্ত্রী মনোয়ারা আক্তারের সম্পদ রয়েছে ৫২লাখ ৩৮হাজার টাকার। যা বাস্তব সম্পদের ধারে কাছেও নেই।
অনুসন্ধানে শুধু সাভারেই মিলেছে দীন ইসলামের চারটি বাড়ি। যার মধ্যে সাভারের গেন্ডা এলাকার পূর্ব ভবানীপুর মহল্লায় দশতলা ফাউন্ডেশনের ভবনটির তিনতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। এছাড়া পাশের বাড়িটিও দীন ইসলামের। নামে-বেনামে কিনেছেন একাধিক প্লট । সেই সঙ্গে সাভার সিটি সেন্টার শপিং কমপ্লেক্সে রয়েছে বেশ কয়েকটি নিজস্ব দোকান।
শুধু সাভারই নয়, দীন ইসলামের অঢেল সম্পদ রয়েছে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরেও। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে স্ত্রীসহ তিন কন্যা ও এক পুত্রের নামে ফিক্সড ডিপোজিটসহ রয়েছে কোটি কোটি টাকা। এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কিশোরগ্যাং বাহিনী লেলিয়ে দেয় সাংবাদিকদের ওপর।
এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরানো দীন ইসলাম ভূমি অফিসের অফিস সহকারী থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যায় । স্বৈরাচার সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আশুলিয়া ভূমি অফিসকে নিজের কব্জায় রেখেছিলেন তিনি। এদিকে, টিআইবি ও সাভার সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্যদের দাবি তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার।
ভূমিখাতে সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সচেতন মহলের। অপরদিকে, মানিকসহ দীন ইসলামের দুর্নীতির তদন্ত করে শাস্তির দাবি জানান তারা।
/অ