দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার দেবিদ্বারে লিচু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ভণ্ডপীর মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন শাহ সুন্নি আল কাদেরী গ্রেপ্তার এড়াতে তিন জেলায় অবস্থান করেন। ঘটনার পর থেকে নিজ এলাকা থেকে পালিয়ে প্রথমে কক্সবাজার যান। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপন করেন। সর্বশেষ স্থান পরিবর্তন করে রাজধানীর মিরপুরে এক পরিচিতের বাসায় আত্মগোপন করলে সেখানে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন।
সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে কথা বলেন এলিট ফোর্সটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
র্যাব জানায়, গত ২ জুন দেবিদ্বারে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভণ্ডপীর ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ২ জুন দুপুরে শিশুটি ইকবালের বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে যায়। তখন লিচু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইকবাল কৌশলে শিশুটিকে তার আস্তানায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি পালিয়ে বাড়িতে যায়। বিষয়টি জানার পর তার মা শিশুটিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গ্রেফতারকৃত ইকবাল এবং তার অনুসারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভিকটিমের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখায়। ওই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা করলে গ্রেফতার এড়াতে ইকবাল আস্তানা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার তথাকথিত একজন পীরের মুরিদ এবং একটি দরবার শরীফের অনুসারী হিসেবে দাবি করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে আস্তানা গড়ে তোলে। ধর্মীয় বিষয়ে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। শুদ্ধভাবে আরবি পড়তে না পারায় বিভিন্ন ইসলামিক বই পড়ে ও মোবাইলে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল শুনে কিছু ধর্মীয় বিষয় মুখস্ত করে সপ্তাহে একদিন নিজ আস্তানায় আসর বসিয়ে ধর্মীয় বক্তব্য দিতেন। নিজ আস্তানার বাইরেও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতেন। তার আস্তানায় আসা লোকজন মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ করতো বলে জানা যায়। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের এবং তার আস্তানার বিভিন্ন আইডি ও পেইজ খুলে আস্তানার প্রচার-প্রচারণা করে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতেন। ইতোপূর্বে তিনি কয়েকবার অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হলে স্থানীয় লোকদের নিকট ধরা পড়েন। পরবর্তীতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অঙ্গিকারনামা দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পান। ভক্তরা হাদিয়াস্বরূপ তাকে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও গবাদি পশু দিত, যা তিনি নিজের ও নিজের আস্তানার জন্য ব্যয় করতেন।
গ্রেফতার ইকবাল কুমিল্লার একটি স্থানীয় কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বিভিন্ন কলেজে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকতা করতেন এবং স্থানীয় লোকজন তাকে প্রফেসর বলে ডাকতেন। পরে সহজে টাকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে কথিত পীর দাবি করেন। বেশভূষা ও চলাফেরায় পরিবর্তন এনে পীরের লেবাস ধারণ করে নামের শেষে শাহ সুন্নি আল কাদেরী উপাধি যুক্ত করে ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে স্থানীয় লোকদের অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। গ্রেফতারকৃত ঘটনার পর থেকে এলাকা থেকে পালিয়ে প্রথমে কক্সবাজার ও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপন করেন। সর্বশেষ স্থান পরিবর্তন করে রাজধানীর মিরপুরে এক পরিচিতের বাসায় আত্মগোপনে থাকেন। সেখানেই র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি।