দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আওয়ামী লগের অন্যতম দাপুটে নেতা ও বহুবারের সাবেক এমপি এবং মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক। আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে ছিলেন না, দলটির সভাপতি মন্ডলির এই নেতা।
আয়কর তথ্যের হিসেবে, ২০০৮ সালের পর থেকে, ১৫ বছরে নানকের সম্পদ বেড়েছে ৩০ গুন। আওয়ামী লীগের এই বিগশট নেতার জমিজমা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যার কিছু আছে ঢাকায়, কিছু তার নিজ জেলা বরিশালে, আবার কিছু আছে কক্সবাজারেও।
এদিকে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন নানক, তবে এবার তার অবৈধ সম্পদ ও এসব সম্পদ তৈরি করার নানা তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে, ঢাকা ১৩ আসন থেকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত জাতীয় সংসদে জায়গা করে নেন জাহাঙ্গির কবির নানক। এরপর শেখ হাসিনার ছাঁয়াছত্রে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পান তিনি।
সেসময় নানক প্রতিমন্ত্রী হলেও, তৎকালীন মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মন্ত্রনালয়ে না আসার সুযোগ নিয়ে, তিনিই মন্ত্রির দায়িত্ব পালন করতেন। আর এভাবেই তার ভাগ্যের চাকা পাল্টাতে শুরু করে।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীনই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে নানা অনিয়ম ও দুনীর্তি। যেখানে টেন্ডার সিন্ডিকেটে পার্সেন্টেজ নেয়ার জন্য বেশ সুনাম ছিলো এই নেতার। নানকের অবৈধ উপার্জনের সতত্যা মেলে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার দাখিল করা হলফনামায়। যেখানে তখন নানক ও তার স্ত্রীর যৌথ সম্পদের পরিমাণ হিসেবে ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫১ টাকা দেখানো হয়। এছাড়া ব্যবসা ও কৃষিকাজ থেকে তাদের বাৎসরিক আয় ২ লাখ টাকা বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেন নানক।
২০০৮ এর নির্বাচনের পর ৫ বছরের ক্ষমতায় যেন, আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান নানক। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় দাখিলকৃত তথ্যে নানক পরিবারের সম্পদ ১০ গুন বেড়ে দাাঁড়ায়।
২০০৮ সালে প্রায় ৬৪ লাখ টাকার সম্পদ, ২০১৪ তে এসে ৬ কোটি ১৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা হয়ে যায়। সম্পদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে স্ত্রীর চাকরি, কৃষি, মৎস্য ব্যবসাসহ আরও অনেক কিছু উল্লেখ করেন নানক। অলৌকিকভাবে ২০১৪ সালে এসে আওয়ামী এই নেতার বার্ষিক আয়ও, ২ লাখ টাকা থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।
এরপর, দ্বাদশ নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইলে, দল থেকে গ্রিন সিংগন্যাল না পাওয়ায়, সেবার সংসদের বাইরেই রয়ে যান নানক। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দুরে থাকেননি এই নেতা। ছলে বলে কৌশলে অবৈধ আয় করেই গেছেন তিনি। তাইতো সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে, আবোরো দলীয় মনোনয়ন পেলে, আবারো সম্পদের হিসেব তুলে ধরেন হলফনামায়। এবার নানক ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ১৫ বছরে ৩০ গুন বেড়ে দাঁড়ায়, ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৫১ টাকায়।
২০০৮ সালে নানক কৃষি অকৃষি মিলিয়ে মাত্র ২ একর ৬৫ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন। ২০২৪ সালে এসে নানক, রাজধানীর উত্তরায় ৬ তলা বাড়ি, মোহাম্মদপুরে ৮ তলা বাড়ি, কক্সবাজারে জমি, জন্মস্থান বরিশালে দুটি বাড়ি, বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় ভূ-সম্পত্তি এবং মাছের খামারের মালক হয়ে যান। এসব কিছুর বেশিরভাগই নাকি পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করেছিলেন নানক। ২০০৮ ও ২০২৪ সালের হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের তথ্যে যে আকাশ পাতাল তফাত রয়েছে, তা আর বলার প্রয়োজন নেই।
এত্তসব সম্পদ বাদেও, আরও একর একর জমি জামার মালিক, সাবেক সরকারের এই নেতা। তবে এসব সম্পদের তথ্য তিনি গোপন রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিরোধী দলের রাজনীতি করার সময় নানকের বিরুদ্ধে নানা সময় অনেক মামলা হয়, যার বেশির ভাগ থেকেও তিনি অব্যহতি পেয়ে যান কোন জবাবদীহিতা ছাড়া। বৈধ অবৈধ নানা উপায়ে আওয়ামী লীগের নেতা মালিক হয়েছেন শত কোটি টাকার সম্পদের।
কে