দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে নিজেদের আখের গোছায় হাওলাদার পরিবার। ছাগলকাণ্ডে নাম আসা সরকারি কর্মকর্তা ড. মতিউর রহমানের পরিবারের ব্যাপারে এমন অভিমত তার নিজ বাড়ি বরিশালের মুলাদি এলাকার কাজিরচর ইউনিয়নের মানুষদের। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে গিয়ে কখনো আওয়ামী লীগ কখনো বিএনপির সঙ্গে নাম জড়িয়েছে মতিউরের বাবা এবং ভাইদের।
ড. মতিউর রহমানকে এলাকাবাসী চেনে পিন্টু হাওলাদার নামে। তার স্কুল শিক্ষক বাবা আব্দুল হাকিম হাওলাদার ছিলেন স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। বিভিন্ন আমলে ক্ষমতায় থাকা সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুরো উপজেলা জুড়ে দাপুটে অবস্থানে আছে এই হাওলাদার পরিবার।
আশির দশকে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের হাত ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন হাকিম হাওলাদার। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলেই পাল্টে ফেলেন দল। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর সহযোগিতায় ২০০৩ সালে কাজিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন হাকিম হাওলাদার। বাবার নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে সব ধরণের সহযোগিতা করেন ছেলে মতিউর রহমান।
দুই দলের সিনিয়র পর্যায়ের অনেক নেতাদের সঙ্গে ক্ষমতার আমলে হাকিম হাওলাদারের সখ্যতার কথা জানান মতিউরের গ্রামের বাড়ির আত্মীয় ও স্থানীয়রা।
মতিউর রহমানের চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ হাওলাদার দেশ টিভিকে জানান, বিএনপি আমলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তার চাচা হাকিম হাওলাদার। দায়িত্বে ছিলেন একটানা ৯ বছর।
এই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আরেক স্থানীয় ব্যাক্তি দেশ টিভিকে বলেন, হাকিম হাওলাদার মিশুক প্রকৃতির ছিলেন। বিএনপি বা আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গেই তার সখ্যতা ছিল৷
বাবার পরে ছোট ভাই আব্দুল কাইয়ুম হাওলাদারকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন মতিউর রহমান। এজন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের দারস্থ হন মতিউর রহমান। এমনটাই দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের।
কাজিরচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মন্টু বিশ্বাস দেশ টিভিকে বলেন, হাওলাদার পরিবারের একটি কৌশল এটি। তারা যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সে দলের নেতাকর্মীদের খুঁজে সম্পর্ক তৈরি করে। বিএনপি নেতা মঙ্গু মতিউরের বাবাকে চেয়ারম্যান হতে সহযোগিতা করেছে। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মতিউর রহমান পিন্টু জাহাঙ্গীর কবির নানকের (আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেন।
ছয় ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় ড. মতিউর রহমান। তার প্রথম স্ত্রী বর্তমানে একটি উপজেলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাবা হাকিম হাওলাদার উত্তর চর বাহাদুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিরত ছিলেন। ২০০৩ সালে স্থানীয় কাজিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন।
কে