দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুনের মারধরের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাবির ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈম বলেন, আমি আমার পরিচয় অর্থাৎ ছাত্রলীগের পরিচয় দেওয়ার পর এডিসি হারুন আরও ক্ষেপে যান, উগ্র হয়ে ওঠেন। তিনি অন্য পুলিশ সদস্যদের বলেন, এ তো ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, মার। এরপর আরও বেশি মারধর শুরু করেন সবাই মিলে। এডিসি হারুন আমাকে বেশি মেরেছে। থানার ফ্লোরে ফেলে মেরেছে আমাকে।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নাঈম ঠিক মতো বসতে পারছে না, খেতে পারে না, কথা বলতে পারছে না ভালোভাবে। তার কপাল-চোখের ওপরের চামড়া উঠে গেছে। মারের চিহ্ন শরীরের বিভিন্ন স্থানে। দাঁতে বেশ আঘাত লেগেছে। মুখ-ঠোঁট ফুলে গেছে।
ঘটনার বিষয়ে নাঈম বলেন, রাষ্ট্রপতির এপিএস আজিজুল হক মামুন ভাই বারডেমে অবস্থান করছেন জেনে সেখানে যাই। সেখানে এডিসি হারুন ও মামুনের মধ্যে হাতাহাতি হচ্ছে দেখে দুজনকেই সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। সবশেষে পুলিশ আসে এবং হাসপাতাল থেকে আমার সঙ্গীদের ধরে নিয়ে যায়। পরে আমি রমনা বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে ঘটনাটি জানিয়ে থানায় যাই। থানায় ঢুকতেই দেখি ওসি তদন্তের কক্ষে সবাইকে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে। মামুন ভাইকেও মারা হচ্ছিল। তখন মারধর করছিলেন এডিসি হারুন ও শাহবাগ থানার পরিদর্শক (ওসি) গোলাম মোস্তফা। ওসির কক্ষে ঢুকতেই কয়েকজন জন আমার ওপর একসঙ্গে হামলা করে। আমার পরিচয় দিলে এডিসি হারুন সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাকে মারতে থাকেন।
সামনের পদক্ষেপ কি জানতে চাইলে নাঈম বলেন, তদন্ত কমিটি আমাকে আশ্বাস দিয়েছে যে সুষ্ঠু বিচার হবে। এখন তাদের বিচারের ওপর সব কিছু। যদি তাদের বিচার আমার মন মতো হয়। তাহলে আর কোনো অ্যাকশনে যাবো না। আর যদি সঠিক বিচার না হয়, তাহলে সবার সঙ্গে আলাপ করে মামলা করবো। অ্যাকশনে যাবো।
প্রসঙ্গত, ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাবির ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈম এবং বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ মুনিমকে শাহবাগ থানায় নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এডিসি হারুনের বিরুদ্ধে। থানায় নির্যাতনের পর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও নাঈমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে নাঈম হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
মারধরের ঘটনার পর এডিসি হারুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়। শাহবাগ থানার ওসি মো. গোলাম মোস্তফাকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নারীঘটিত ঘটনার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিনকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। বারডেম হাসপাতালে এডিসি হারুন ও সানজিদাকে একসঙ্গে আড্ডা দিতে দেখে রেগে যান সানজিদার স্বামী আজিজুল হক মামুন (রাষ্ট্রপতির এপিএস)। এরপর মামুন ও হারুনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ঘটনার পর পুলিশ এসে মামুন ও তার সঙ্গে থাকা অন্যদের থানায় নিয়ে যায়। সেখানেই তাদের মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
জেডএ