দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফেসবুকে বিভিন্ন টু-লেট গ্রুপে বাসা ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অ্যাডভান্সের নামে টাকা হাতিয়ে নেন হোসেন আবরাহাম (ফেসবুক নাম) নামে এক প্রতারক। এরপর আর ফোন ধরেন না, দেন হুমকি। পুলিশও তার কিছু করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তার নামে বাড্ডা থানায় অভিযোগ ও জিডি করেছেন টেলিভিশনে কর্মরত একজন সংবাদকর্মী।
এর আগে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রতারণার শিকার হন ওই সংবাদকর্মী।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ফেসবুকের একটি টু-লেট গ্রুপে বাসাভাড়ার বিজ্ঞপ্তি দেখে ওই প্রতারকের মোবাইল নাম্বার ০১৯৬৯৮৬৪০৭৭-এ ফোন দেন। পরে হোসেন আবরাহাম নামে ওই প্রতারক তাকে অনুরোধ করেন অ্যাডভান্স করার জন্য। নাহলে বাসাটা তিনি রাখতে পারবেন না। কারণ আরও অনেকে বাসাটা দেখেছেন বলে জানান ওই প্রতারক। পরে তার কথা শুনে ভুক্তভোগী কিছু টাকা পাঠান। এরপর তার দেওয়া লোকেশন আফতাব নগরে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার পরও তিনি (প্রতারক) আসেননি।
সবশেষে ওই সংবাদকর্মী ঘটনা বুঝতে পেরে বাড্ডা থানায় যান। গিয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোশাররফকে ঘটনার বিষয়ে জানান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা এই প্রতারককে ফোন করলে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত দেবেন বলে কথা দেন। কিন্তু এরপরও টাকা ফেরত দেননি প্রতারক। পুলিশে জানানোর কারণে ভুক্তভোগীকে উল্টো হুমকি দেন তিনি।
পরে ভুক্তভোগী আরও কয়েকবার ফোন করলে ওই প্রতারক বলেন, পুলিশ আমার কচু করবে, ধরতে বলেন আমাকে। পুলিশসহ আপনাকে মারা হবে। আমাদের গ্রুপ সম্পর্কে আপনার ধারণা নেই।
প্রতারকের ফেসবুক আইডি
আফতাব নগর এলাকার কয়েকজন ছাত্রছাত্রী জনান, টু-লেট গ্রুপে এমন অনেক ভুয়া বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, হয়রানি করা হয় মানুষকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ নিয়ে কাজ করা উচিৎ।
এ বিষয়ে এস. আই মোশাররফ বলেন, এমন বহু প্রতারক আছে। সবাইকে সতর্ক থাকা উচিৎ এসব বিষয়ে।
আজ (বুধবার) পুলিশ কর্মকর্তা স্বপন জিডি লিপিবদ্ধ করেছেন, তিনি প্রতারণা-হয়রানির বিষয়টি সেখানে উল্লেখ না করে এড়িয়ে গেছেন। জিডিতে ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট করেননি তিনি। কিন্তু অভিযোগে প্রতারণা-হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় অভিযোগ-জিডি করা হলে উপপরিদর্শক (এস.আই) বেলাল বলেন, অনলাইন মানেই ফাঁদ। আমরা এটা নিয়ে কাজ করবো। এদের ধরার চেষ্টা থাকবে আমাদের। আশা করি ধরা যাবে।
আরেক এস.আই নওশাদ বলেন, এমন বহু প্রতারক আছে। সিন্ডিকেট হতে পারে। আমাদের টিমে যারা সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইনের ক্রাইম নিয়ে কাজ করেন, তাদের জানানো হবে। প্রয়োজনে ডিবিতেও জানানো হবে।
ভুক্তভোগীর মতামত- টাকার জন্য আমি জিডি করিনি। এই প্রতারককে ধরে যেন সিন্ডিকেটটা সামনে আনা যায় তাই অভিযোগ করেছি। এড়াছা এমন একটা চক্র আছে সে বিষয়ে আমাকে অনেকেই জানিয়েছেন।
জেডএ