দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিকআপ ভ্যান ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত পিকআপ ভ্যান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান, ৯৮টি ডিমের খালি ক্যারেট, ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা, দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মনোহরদী থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) রায়হান সরকার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বড়নগর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ইমন (২৮), একই গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে মো. রিফাত হৃদয় (২৮), কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুন্না ওরফে রুমান, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ভূঁইয়ারপাড় গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে রহমত আলী ওরফে জিল্লুর এবং নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার আবু তাহেরের ছেলে জসিম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক সড়কের মনোহরদীর একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকায় ইসমাইল হোসেনের বাড়ির সামনে কয়েকজন ডাকাত পিকআপ ভ্যান দিয়ে ডিমবোঝাই আরেকটি পিকআপ ভ্যান আটকায়। এ সময় ডিমের গাড়ির চালক ও তাঁর সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে ডাকাতদের ব্যবহৃত গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের হেতেমদী-সাগরদী বাইপাস সড়কের পাশে ফেলে রেখে ডিমবোঝাই পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
এ ঘটনায় ডিমের গাড়ির মালিক মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। পরে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর মহাসড়ক থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে লুণ্ঠিত ডিমের ক্রেতা ও ডাকাতদের পূর্বপরিচিত জসিম উদ্দিনের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত পিকআপ ভ্যান, ডিমের খালি ক্যারেট ও ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় জসিম উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সদস্য। তাঁরা বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিলেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, এসআই শহীদুজ্জামান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এমএস/