দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়ে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমৃদ্ধ জনপদ। জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি গভীরভাবে জড়িত। এমন একটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, তাঁদের মূল বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৩০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর এক মাস না যেতেই আবার কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাঁরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় আট-নয় বছর আগে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল। ওই সময় নাচ-গানের মধ্যে এক তরুণী ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণে অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, যে কারণে আগে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছিল, সেই ধরনের পরিস্থিতি আবার তৈরি করতে চায় কি না কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ওবায়দুল হক বলেন, তাঁরা সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে গেছেন—এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তাঁরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও আসেননি। বিষয়টি জানালে এবং পরামর্শ দিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এটি ঠিক কনসার্ট নয়; কলেজের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ—এ তিনটি কর্মসূচি রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা পরদিন পরীক্ষা থাকায় উচ্চশব্দে গান বাজানো বন্ধ বা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। এ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্যসহ ৩০ মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ছাড়া গত ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনীও বন্ধ করা হয়।
এমএস/