দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের ঘিওরে পূর্বশত্রুতার জেরে মাসুম মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মাসুম মিয়া ওই গ্রামের মৃত সন্তোষ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী রানা মিয়ার সঙ্গে মাসুমের বিরোধ চলছিল। এর জেরে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মাসুমকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে রানার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনে মাসুমকে একা পেয়ে রানা মিয়া, তাঁর ভাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রনি মিয়া এবং ছোট ভাই রায়হান তাঁকে ধরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে মাসুমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত মাসুমকে উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে এলাকায় মাসুমের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রানা ও রনি মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বড়টিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মজনু মিয়া বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। অটোরিকশার ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটলেও এর পেছনে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রথম দফার মারধরের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে দ্বিতীয় দফায় মাসুমকে হামলার শিকার হতে হতো না। রাজনৈতিক দলের মীমাংসার আশ্বাসে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রায় দুই যুগ আগে আহত মাসুমের বাবা সন্তোষ মিয়াকেও মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, হাতুড়ি দিয়ে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রনি ও রানার মা, বাবা এবং বোনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/