দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পাওনিয়ার বেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এতে প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুড়ে গেছে কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগুনের পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের বিভিন্ন কার্যালয়সহ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় এসব স্থাপনায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানি না থাকায় প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে তিনি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত প্রকল্পে ছুটে যান। ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের অভ্যন্তরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আগুনে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ের বিভিন্ন কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সার্ভার রুমে আগুন লাগায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথিপত্র ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. করিব হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এমএস/