দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা। বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা, আলো, মাইক ও এসিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে পানির পাম্পও বন্ধ থাকায় অযুর পানির ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মসজিদের জেনারেটর কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দ হতে থাকে। বিষয়টি টের পেয়ে মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। পরে কক্ষের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পড়ে গেছে। এরপর থেকেই মসজিদের অভ্যন্তরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
প্রতিদিন মসজিদটিতে আড়াই থেকে তিন শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমার নামাজে ছয় থেকে সাত শতাধিক মুসল্লির সমাগম হয়। নারী মুসল্লিরাও নিয়মিত এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। বিদ্যুৎ ও অযুর পানির ব্যবস্থা না থাকায় নারী-পুরুষ উভয় মুসল্লিকেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় বর্তমানে মুসল্লিদের অযুর ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ। মসজিদের কর্মীদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাইরে থেকে বালতিতে করে পুকুরের পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি আলি হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে মুসল্লিদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। অযুর পানি না থাকায় নামাজের সময় মুসল্লিদের বাইরে গিয়ে অযু করতে হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ কমবে।
মুসল্লি মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, মসজিদে অযুর ব্যবস্থা নেই—এটি অনেক সময় মনে থাকে না। নামাজের সময় দ্রুত জামাত ধরতে মসজিদে অযু করতে এসে পানি না পেয়ে আবার বাইরে গিয়ে অযু করে আসতে হয়। এতে অনেক সময় জামাত চলে যায়। পরে জামাত না পেয়ে একা নামাজ আদায় করতে হয়। দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গণপূর্ত বিভাগের একজন বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মসজিদটির বৈদ্যুতিক সমস্যা পরিদর্শন করেছেন। মসজিদটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মিটার হয়ে মেইন সুইচ পর্যন্ত তাঁদের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব। ওই পর্যন্ত বিদ্যুৎ সচল রয়েছে। মেইন সুইচের পর ভেতরে কী হয়েছে, সেটি তাঁদের বিষয় নয়। সেখানে হাত দেওয়া তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী এসে বিষয়টি দেখে গেছেন। ভেতরের কিছু যন্ত্রাংশ পড়ে গেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এটি ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন।
এদিকে টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে মুসল্লিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা, আলো, মাইক ও এসি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি পানির পাম্প বন্ধ থাকায় অযুর পানির সংকটও তৈরি হয়েছে।
মুসল্লিদের দাবি, একটি মডেল মসজিদে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক মানুষের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকলেও টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অযুর পানির মতো মৌলিক সুবিধা বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুর্ভোগের বিষয়। দ্রুত বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামত করে মসজিদের বিদ্যুৎ ও অযুর পানির ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এমএস/