দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইফতারের পর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এক শিশু শিক্ষার্থী। এর মধ্যেই তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের পর আরও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে একই ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মাদ্রাসার পরিচালক শফিকুল ইসলামকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল নগরের সিএন্ডবি রোডের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া তেমাথা এলাকার সোমালয় ভবন-৩-এ অবস্থিত তাহফিজুল মিল্লাত মডেল মাদ্রাসায় এসব অভিযোগ উঠেছে। শফিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, গোপন সূত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচালকের অনৈতিক আচরণের অভিযোগের কথা জানতে পারেন তিনি। পরে মাদ্রাসায় গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কাছ থেকেও পরিচালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
ওই অভিভাবক জানান, বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার ভবনের বাড়িওয়ালার সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। বাড়িওয়ালা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে সন্ধ্যার মধ্যে উপস্থিত হতে বলেন। অন্যথায় মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, রমজান মাসে রাতে ইফতারের পর ঘুমাতে যাওয়ার সময় তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হয় বলে অভিযোগ করেছে সে। শিক্ষককে সম্মান করার কারণে এবং ভয় থেকে বিষয়টি কাউকে জানাতে সাহস পায়নি বলেও জানায় ওই শিক্ষার্থী।
অপর এক শিক্ষার্থীর বক্তব্যেও পরিচালকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাদ্রাসায় গিয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে পরিচালক শফিকুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার শিক্ষক মো. বায়জিদ জানান, প্রতিষ্ঠানটির হেফজ বিভাগে ১৫ জন, নাজেরা বিভাগে ১৫ জন, নুরানি বিভাগে ৬০ জন এবং মহিলা মাদ্রাসায় ১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শিশু। অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের ওপর আস্থা রাখেন। কোনো শিক্ষক বা পরিচালকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
মাদ্রাসার পাশের এক প্রতিবেশী নারী বলেন, আগে তিনি নিজের সন্তানকে ওই মাদ্রাসায় পড়ানোর কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এখন আর সেখানে সন্তানকে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এমএস/