দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একমাস না পেরোতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের ট্রলারে আবারও হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়া একটি ট্রলারে হামলা চালিয়ে ১০০ ট্রে মাছ, জাল, তেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জেলেদের মধ্যে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ) ভোররাত ৫ টার সময় চট্রগ্রামের কর্নফুলি এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ারের মালিকানাধীন শাহআমানত ট্রলারে কুয়াকাটা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিন পশ্চিমে পায়রা বন্দর বয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এসময় ট্রলারে থাকা মালামাল লুটে বাধা দিলে হোসেন এবং সেলিম নামে ২ জন জেলে গুরুতর আহত হন।
গুরুতর আহত হোসেন এবং সেলিম উভয়ই নোয়াখলি এলাকার বাসিন্দা। মহিপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বাসায় ফিরেছেন।
এর আগে চলতি বছরের (৫ আগস্ট) বঙ্গোপসাগরের খাম্বা বাতি এলাকায় এফবি মিম নামে একটি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
জলদস্যুদের কবলে পড়া এফবি শাহাদাত নামের ট্রলারটিতে থাকা ভুক্তভোগী জেলে মফিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের চুকান ভেঙ্গে গেলে আমরা সমুদ্রে ভাসতে থাকি। হঠাৎ ৪-৫ টি মাছ ধরার ট্রলার আমাদের ঘিরে ফেলে এবং ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে। আমরা আমাদের ট্রলারে থাকা কাগজপত্র দেখালেও তারা বিশ্বাস না করে উল্টো আমাদের মারধর করে এবং তাদের ট্রলার দিয়ে আমাদের ট্রলারের চুকান এবং বোটের কাঠ ভেঙ্গে ফেলে। আমরা হাত জোর করে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে তীরে ফিরে এসেছি।

ডাকাতির কবলে পড়া ট্রলারটির মালিক দেলোয়ার বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বরে ট্রলারটি বাজার করে পাঠিয়েছি সমুদ্রে। হঠাৎ সুযোগ নিয়ে এফবি নুসরাত, এফবি মায়ের দোয়া, এবং এফবি আল্লাহর দান নামে তিনটি ট্রলারসহ ৪-৫ টি ট্রলার আমার ৬ লক্ষ টাকার মাছ, ৫ লক্ষ টাকার জালসহ তৈল নিয়ে যায়। এটা ডাকাতি ছাড়া আর কিছুই না। আমি এদের বিচার চাই।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মজনু জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই সমুদ্রে জলদস্যুদের উপস্থিতি ছিলো না তবে সাম্প্রতিক সময়ে গভীর সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং সমুদ্রে নৌ টহল জোরদারের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে কোস্টগার্ডের নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার শহীদুল্লাহ বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত সমুদ্রে টহল দিয়ে যাচ্ছি।যদি তাৎক্ষণিক আমাদের জেলেরা জানায় তাহলে আমরা সঠিক ভাবে জলদস্যুদের ধরতে পারি। তাছাড়া জেলেরা ৯৯৯ সহযোগীতাও নিতে পারে। কোস্টগার্ড সমুদ্র ও জেলেদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাড়ির অফিসার ইনচার্জ নয়ন তারকুন বলেন, বিষয়টি আমরা মাত্রই জেনেছি। আমরা খোজ খবর নিচ্ছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কেএম