দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে হারপিক পান করে এক নারী ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আড়াই বছর বয়সী এক ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত উর্মির মা নার্গিস বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেছেন। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুদের বাবা মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মিলন মিয়ার স্ত্রী উর্মি বেগম (২২) ও তাঁদের মেয়ে মিম (৫)। চিকিৎসাধীন শিশুটির নাম আবির হোসেন, বয়স আড়াই বছর। মিলন পেশায় গাড়িচালক। তাঁরা মাধবদী থানার কান্দাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে উর্মি ও তাঁর স্বামী মিলনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ঝগড়া ও মনোমালিন্য চলছিল। বুধবার ঝগড়ার একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জেরে উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান।
পরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে উর্মি হারপিকের তরল পদার্থ পান করেন এবং দুই সন্তানকেও তা পান করান বলে পুলিশ জানায়। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবিরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এমএস/