দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে দাফনের ১৪০ দিন পর ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহটি তোলা হয়। পরে আফগানিস্তান থেকে আসা তাঁর ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। স্বদেশে নিয়ে পারিবারিক গোরস্থানে ভাইকে দাফন করবেন তিনি।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা তাসনিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক টিপু সুলতান, নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম, ভাই ইমাল মোহাম্মদী, ঝিনাইদহ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের দুলাল হোসেনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
মরদেহ হাতে পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমাল মোহাম্মদী। তিনি বাংলাদেশ সরকার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ইমাল বলেন, অসুস্থ মায়ের অনুরোধেই তিনি ভাইয়ের মরদেহ নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের কাছে এটিই এখন সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মরদেহ ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিষয়টি প্রশাসনের কাছে গুরুত্ব পায় এবং প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, আইন ও বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তসংলগ্ন ইছামতী নদী থেকে একটি ভাসমান অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি।
পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারে খোঁজ করেও মরদেহটির পরিচয়ের সঙ্গে কোনো মিল পায়নি। এরপর ১৪ এপ্রিল আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মরদেহের ছবি দেখে আফগানিস্তানে থাকা পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসমত মোহাম্মদী হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেন তাঁর ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদী।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মরদেহ ফেরতের অপেক্ষায় তিনি প্রায় ৫৮ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করেন। শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর মঙ্গলবার দাফনের ১৪০ দিন পর কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।
মরদেহ গ্রহণের পর স্বজনেরা সেটি নিয়ে আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
যে আই