দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার চান্দিনায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিল্পী রাণী দাশকে হত্যার মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বকুল রাণী দাশ নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মিথিলা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বারইপাড়া এলাকার মৃত ক্ষিতিশ দাশের ছেলে সমির চন্দ্র দাশ, ৪২, এবং তার স্ত্রী রূপালী রাণী দাশ, ৩৭। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে খালাস পাওয়া বকুল রাণী দাশ আদালতে ছিলেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি সকালে মহিচাইল এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে রনজিৎ চন্দ্র দাশ ও তার স্ত্রী শিল্পী রাণী দাশের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এতে শিল্পী রাণী দাশ ও তার স্বামী রনজিৎ চন্দ্র দাশ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিল্পী রাণী দাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত রনজিৎ চন্দ্র দাশকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাসুর নিতাই চন্দ্র দাশ বাদী হয়ে ওই দিনই চান্দিনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সমির চন্দ্র দাশ, তাঁর স্ত্রী রূপালী রাণী দাশ এবং বকুল রাণী দাশকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহজাহান তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।
সাক্ষ্য-প্রমাণ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত সমির চন্দ্র দাশ ও রূপালী রাণী দাশকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে দণ্ডবিধির ৩০৪ (১খ) ধারায় তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাদের প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বকুল রাণী দাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল মিয়া।
যে আই