দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার মহম্মদপুরে ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মধুমতি নদী। তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন নদীপাড়ের শত শত পরিবার।
মধুমতি তীরবর্তী প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের দিন-রাত কাটছে ভাঙন আতঙ্কে। এরই মধ্যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, ঈদগাহ, মন্দির, দোকানপাট ও বাজার। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় তাঁদের। বছরের অন্য সময় কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও বর্ষা এলেই নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়। ভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্রুত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ ও তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ছে। বালু ব্যবসায়ীদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের খেসারত নদীপাড়ের সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার উত্তরে চরসেলামতপুর থেকে দক্ষিণে গোপালনগর, মহেষপুর, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা, চরঝামা, আড়মাঝি, যশোবন্তপুর, চরপাচুড়িয়া, রায়পুর, মুরাইল, ধুপুড়িয়া, জাঙ্গালিয়া, রুইজানি, কাশিপুর, ধুলজুড়ি, দ্বিগমাঝি, দেউলি, ভোলানাথপুর ও কালিশংকরপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের শত শত পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধুমতি নদীর তীরে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। কারও চোখে ঘর হারানোর শঙ্কা, আবার কেউ তাকিয়ে আছেন নদীর দিকে—কখন তাঁর শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়, সেই আতঙ্কে।
হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের তহিদুল ইসলাম লিপন ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন সুলতানা জানান, ইতোমধ্যে তাঁদের ১০ থেকে ১২ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাঁচবার বাড়ি সরাতে হয়েছে। এ বছরও ভাঙনের আশঙ্কায় পাশের জমিতে সাময়িকভাবে ঘর তুলে বসবাস করছেন তাঁরা।
তাঁদের ভাষায়, ‘কীভাবে আবার ঘর সরাব, কোথায় গিয়ে থাকব—এই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।’
একই গ্রামের স্বামীহারা নুর নাহার বলেন, চারবার বাড়ি সরিয়েছেন তিনি। ভাঙনে ফসলি জমি ও গাছপালা সব হারিয়েছেন। এখন আবারও ভাঙনের মুখে পড়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ভ্যানচালক মো. ইনামুল শেখ বলেন, তিনবার তাঁর বাড়ির ভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। নিজের কোনো জমি না থাকায় এখন অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। ভ্যান চালিয়ে কষ্টে সংসার চালাতে হচ্ছে তাঁকে।
এদিকে নদীভাঙনের খবর পেয়ে গত ১৯ আগস্ট উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী। এ সময় তিনি প্রায় ৩০০ মিটার জিওব্যাগ ডাম্পিং এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয়দের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
মাগুরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তস কর্মকার বলেন, ‘আমি তিন দিন আগে যোগদান করেছি। যেসব এলাকা নদীভাঙনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এমএস/