দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগরে মরা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারানো পাঁচ শিশুর একসঙ্গে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নদীতীরবর্তী চর চাকলা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।
একসঙ্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যুতে চর চাকলা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারির পাশাপাশি কান্নায় ভেঙে পড়েন গ্রামের মানুষ। শিশুদের শেষ বিদায় জানাতে কবরস্থানে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, পাঁচ শিশুর বাড়ি পাশাপাশি। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। শুক্রবার দুপুরে একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।
গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, জীবনে কখনো এতগুলো লাশ একসঙ্গে দাফন করতে দেখেননি। গ্রাম থেকে একসঙ্গে পাঁচ শিশুর বিদায় তাঁদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই প্রত্যাশা তাঁর।
চর চাকলা গ্রামের কলেজশিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই তাঁদের এলাকায় পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেউ পানিতে ডুবে গেলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও আসতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। এলাকায় প্রশিক্ষিত কোনো উদ্ধারকর্মী নেই। এমনকি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও নেই।
তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবী দল গড়ে তোলা যেতে পারে। সরকারের উদ্যোগে এটি সহজেই করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. শুকুরদ্দি বলেন, তাঁদের গ্রামে যেতে একটি নদী পার হতে হয়। গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তাও নেই। প্রতি বছর পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হলেও এ বিষয়ে কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না। পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুদের চোখে চোখে রাখা হলেও চোখের আড়াল হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার মারা যাওয়া পাঁচ শিশুও পরিবারের অগোচরে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল।
আব্দুর রহমান নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পাশাপাশি পাঁচ শিশুকে দাফন করা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো কবর আগে কখনো খোঁড়া হয়নি। আল্লাহ যেন শিশুদের জান্নাতবাসী করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজার রাজন বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু কমাতে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মসজিদ ও স্কুলকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি পানিতে ডুবে মৃত্যু ও বজ্রপাত প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্গম এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী বা শিশুদের সাঁতার শেখানোর কার্যক্রম চালু নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এমএস/