দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও খাদ্য পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট অধিদপ্তরের গঠিত একটি কমিটি ঘিওর স্থানীয় খাদ্যগুদামে সরেজমিন পরিদর্শন করে খাদ্যশস্যের মজুত যাচাই করে। এ সময় খাতাপত্রের হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত মজুত মিলিয়ে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি পাওয়া যায়।
তবে সরকারি হিসাবের তুলনায় গুদামে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তারও কোনো হিসাব মেলেনি।
এর মাত্র ১০ দিন আগে, ১৫ আগস্টের নিয়মিত পাক্ষিক প্রতিবেদনে গুদামের মজুত স্বাভাবিক দেখানো হয়েছিল বলে খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বড় ধরনের কোনো ঘাটতির তথ্য উল্লেখ ছিল না।
গত ২৫ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর ঘিওর খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়। দেশের সব খাদ্যগুদামে মজুতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চলমান বিশেষ অডিটের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের দল গুদামটি পরিদর্শন করে। এ সময় খাতাপত্রের হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত মজুতের বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘাটতির বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে খাদ্য পরিদর্শক শ্রী বিপুল কুমারের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। ঘিওরের খাদ্যগুদামে অডিটের সময় বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে খাদ্যগুদামটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
এমএম/