দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত সাগরের ডিএনএ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে গেছে।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে নবজাতকের জৈবিক পিতৃত্বের সঙ্গে অভিযুক্ত সাগরের জেনেটিক মিল পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত আরও শক্ত ভিত্তি পেয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত। অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রাণনাশের হুমকির কারণে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখে। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়। এরপর পরীক্ষা করালে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় এলে র্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের অনুমতি নিয়ে গত ১৭ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে অভিযুক্ত সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশু সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে।
আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। পরে নমুনাটি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত সাগরের ডিএনএর সঙ্গে নবজাতকের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।
এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) একটি প্রতিনিধি দল ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ঘটনাস্থল ও থানা পরিদর্শন করেছে। মামলার তদন্তে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবার।
এমএস/