দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরের শার্শা উপজেলার রায়পুর-বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর ব্যাপক মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। খামার মালিকদের দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। এতে পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে। তাদের দাবি, এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এ এফ মৎস্য খামারটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। খামার মালিকদের দাবি, মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার খাদ্য বাকিতে নেওয়া হয়েছে। মাছ মারা যাওয়ায় সেই টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, ঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। এর একটি বড় অংশ বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা আরও কমে যাওয়ায় মাছ মরতে শুরু করে।
তিনি বলেন, বাজার থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মাছের খাদ্য বাকিতে নিয়েছি। সব মিলিয়ে আমাদের প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কীভাবে এই ঋণ পরিশোধ করব এবং আবার ঘুরে দাঁড়াব, বুঝতে পারছি না।
খামারের কর্মচারীরা জানান, রাত ১টার পর বিদ্যুৎ না থাকায় কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। সকালে বিপুল পরিমাণ মাছ পানিতে ভেসে ওঠে এবং পরে সেগুলো পচতে শুরু করে।
খামারসংশ্লিষ্টরা জানান, এ খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। এ ছাড়া খামারটির আয়-রোজগারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার জড়িত।
ঘের এলাকায় গিয়ে পানিতে ভাসতে থাকা মৃত মাছ দেখা যায়। কোথাও কোথাও মাছ পচতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ এক রাতের মধ্যে নষ্ট হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন খামার মালিক ও কর্মচারীরা।
খামার মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর থেকে শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা থানা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ ও মাছ চাষ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ এবং মাছের মৃত্যুর প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে খামার মালিকদের অভিযোগের বিষয়ে শার্শা উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মঞ্জুরুল হক বলেন, রাতে প্রায় ৪০ মিনিট লোডশেডিং ছিল। খামারে নিজস্ব বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
যে আই