দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের কোনো মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে দেখতে চায় না সরকার বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে মাঠপর্যায়ে সরাসরি পরিদর্শন ও তদারকি শুরু করেছি।
রোববার নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রোগীদের শয্যা, রান্নাঘর, বাথরুম ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসক-নার্সদের আচরণ নিয়ে কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে তিনি কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাননি। বরং সাধারণ মানুষ আগের তুলনায় ভালো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
পরিদর্শনে উঠে আসা বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়ম নিরসনে কয়েকটি নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
হাসপাতালটিতে ২৫০ শয্যা থাকলেও ১০০ শয্যার খাবারের বরাদ্দ থাকার বিষয়টি চিহ্নিত করে তিনি জানান, রোগীদের খাবারের মান উন্নত করতে মাথাপিছু দৈনিক বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
স্যালাইন মজুদ থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নার্সকে সতর্ক করার এবং বিষয়টি সমাধানে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট দেরিতে কর্মস্থলে আসা চিকিৎসক ডা. দীন মোহাম্মদ সোহেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁয় ডায়ালিসিস সুবিধার ঘাটতি দূর করতে জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং টারশিয়ারি পর্যায়ে ৫০টি ডায়ালিসিস মেশিন দ্রুত স্থাপনের লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও ১০ শয্যার ডায়ালিসিস ইউনিট চালু করা হবে।
নওগাঁয় ৯ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বিশেষায়িত শয্যা, আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব ও ফিজিওথেরাপি ইউনিট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি সারাদেশে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার এবং পাঁচ স্তরবিশিষ্ট রেফারেল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লাইসেন্সহীন ও জবাবদিহিতাহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত রয়েছে। দেশের পুরো স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএস/