দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলা স্থল শুল্ক চেকপোস্ট দিয়ে মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারি নথিতে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। একই স্মারক ও ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করে ভিন্ন তারিখে দুটি স্বাস্থ্য সনদ ইস্যুর তথ্য পাওয়ায় নথির যথার্থতা ও রপ্তানি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেসার্স সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং কোম্পানি লিমিটেডের নামে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া দুটি ‘রপ্তানিযোগ্য মাছের স্বাস্থ্য সনদে’ একই ক্রমিক নম্বর ও স্মারক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। সনদ দুটির ক্রমিক নম্বর ১৬৫২৯৮ এবং স্মারক নম্বর Q.C/33.02.5865.501.18.134.16-13।
এর মধ্যে একটি সনদের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৬। সেখানে মাছ পরিদর্শনের তারিখও ৮ জানুয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য সনদটির তারিখ ৯ জানুয়ারি এবং পরিদর্শনের তারিখও ৯ জানুয়ারি দেওয়া রয়েছে।
দুটি নথিতেই রপ্তানিকারক হিসেবে একই প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। আমদানিকারক হিসেবে ভারতের লাভধান মেরিন প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পণ্যের বিবরণে রুই, কাতলা ও পাবদা মাছ এবং পরিমাণ ৩০০ প্যাকেজ ও নিট ওজন ৭ হাজার ২০০ কেজি উল্লেখ রয়েছে।
একই স্মারক ও ক্রমিক নম্বরের নথিতে কীভাবে এক দিনের ব্যবধানে দুটি সনদ কার্যকর হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, ৮ জানুয়ারির সনদটি বাতিল, সংশোধন বা পুনরায় ইস্যু করা হয়ে থাকলে তার সরকারি রেকর্ড থাকার কথা। আর দুটি সনদই কার্যকর হলে একই নম্বর ব্যবহারের কারণও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রপ্তানিকারক বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সনদ, বিল অব এক্সপোর্ট, চালান রেজিস্টার, ওজনের রেকর্ড ও শুল্ক বিভাগের নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এতে একই স্বাস্থ্য সনদ একাধিক চালানে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হবে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিএনএফ এজেন্ট ও চেকপোস্টের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মৎস্য বিভাগ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটি তদন্ত করেছে কি না কিংবা কোনো প্রতিবেদন দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৌলভীবাজারের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, চাতলা চেকপোস্ট তিনি একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন। তবে একই স্মারক ও ক্রমিক নম্বরের দুটি স্বাস্থ্য সনদ নিয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
চাতলা স্থল শুল্ক চেকপোস্টের রাজস্ব কর্মকর্তা আশীষ দাশও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ অবস্থায় একই স্মারক ও ক্রমিক নম্বরের দুটি স্বাস্থ্য সনদের সত্যতা, সনদ ইস্যুর প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট চালানের শুল্ক নথি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, নথিপত্র পরীক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
যে আই