দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির নলছিটিতে বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় দুটির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে নদী। গত ১৫ আগস্ট ভাঙনে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ নদীর তীররক্ষা বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে যেকোনো সময় বিদ্যালয় দুটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুরে পাশাপাশি অবস্থিত বিদ্যালয় দুটির সঙ্গে বিষখালী নদীর দূরত্ব খুবই কম। জোয়ারের সময় নদীর পানি বিদ্যালয়ের মাঠে উঠে যায়। ঢেউ আছড়ে পড়ে ভবনের কাছাকাছি। এতে দুই বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দার বলেন, বিদ্যালয়ে ৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন ভবনের কাছে চলে এসেছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় শিশুরা নদীর দিকে চলে যায়। জোয়ারের সময় মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। যেভাবে ভাঙন চলছে, তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবন নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার ও হাসানুজ্জামান বলেন, একসময় বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। নদীভাঙনে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ বাঁধ নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট মাঠ ও বিদ্যালয় ভবনও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা জানান, বিষখালীর ভাঙনে এরই মধ্যে এলাকার অনেক মানুষ বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িঘর ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিদ্যালয় দুটিকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু বলেন, সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয় দুটির পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অন্যান্য স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
যে আই