দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জামাল উদ্দিন সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে পরিবারের সুখ-স্বচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে প্রায় ১২ বছর থাকার পর অসুস্থ হয়ে কয়েক মাস আগে দেশে ফেরেন। অসুস্থতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।
গত ২ আগস্ট রাতে কালমেঘা এলাকায় অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি সেখানে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকেন। পরদিন স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ৬ আগস্ট এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট তাঁকে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামাল উদ্দিনের ভাতিজি ইসমত আরার স্বামী শাহ আলম মিয়া।
তিনি জানান, সোমবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ইসমত আরার বাড়িতে জামাল উদ্দিন মারা যান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর খবর তাঁর পরিবারকে জানানো হলেও কেউ তাঁকে দেখতে আসেননি।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা জামাল উদ্দিনের কোনো খোঁজ নেননি। এ ঘটনায় তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার। তিনি দাবি করেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে জামাল উদ্দিনের কোনো সম্পর্ক নেই। রাতের বেলায় জামাল উদ্দিন কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছালেন, সে বিষয়ে তিনি তাঁর ছেলের দিকে ইঙ্গিত করেন।
জামাল উদ্দিনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় তাঁকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এমএস/