দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গভীর বঙ্গোপসাগরে ফের বেড়েছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। বৈরী আবহাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবিকার টানে বঙ্গোপসাগরে দিনের পর দিন পরে থাকেন জেলেরা। স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকলেও শান্তি নেই তাদের। গত কয়েকদিন হঠাৎ করে সাগরে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তারা এখন জেলেদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে।
দেখা গেছে সাগরে জলদস্যুদের উৎপাত নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন পটুয়াখালী উপকূলের হাজারো জেলে। অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে লুটে নেওয়া হচ্ছে মাছ, জাল ও জ্বালানি তেল। ফলে জীবিকার তাগিদে তাই সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জেলেরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মহিপুর আলিপুর মৎস্য বন্দরে নোঙর করে রাখা ট্রলারে থাকা জেলেরা সমুদ্রে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, চলতি মাসের (৫ আগস্ট) ভোররাতে কুয়াকাটা থেকে দক্ষিণ-পূর্বে গভীর সাগরের খাম্বা বয়া বাতি এলাকায় এফবি মিম নামের একটি ট্রলারে হামলা চালায় সশস্ত্র দস্যুরা। অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে মারধর করা হয়। লুটে নেওয়া হয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মাছ, জাল ও জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন মালামাল।
জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত উত্তাল সাগরে পাড়ি জমান পটুয়াখালীর উপকূলের হাজারো জেলে। কখনো বৈরী আবহাওয়া, আবার কখনো সাগরের বিশালকৃতির ঢেউ সব ঝুঁকি পেরিয়েই চলে মাছ ধরার কাজ। কিন্তু এবার প্রকৃতির পাশাপাশি নতুন করে ভয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জলদস্যুরা।
জেলেরা জানান, সমুদ্রে ফিশিং বোট নিয়ে চলাচল করা জলদস্যুরা ট্রলার দেখে হঠাৎ হামলা চালায়। তারপর মারদর করে সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়।
এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি রুহুল জানান, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় একসময় জলদস্যুদের দাপট থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযানে সমুদ্র কয়েক বছর নিরাপদ ছিল। তবে সাম্প্রতিক এক মাসে দস্যুদের উৎপাত আবার বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের জেলেদের অনেক সময় ধরে নিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপন নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অনেককে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। তারপরও পেটের দায়ে সমুদ্রে যাই।
মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, সমুদ্র উপকূলের নিকটবর্তী এলাকায় জলদস্যুরা হামলা চলালেও প্রশাসনের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে গোটা উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান মৎস্যজীবী নেতাদের।
মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির নেতা,গাজী মজনু বলেন, আমরা খুবই হতাশ। ইদানীং সমুদ্রে জলদস্যুর তান্ডব অনেকটাই বেড়েছে। জেলেরা সাগরে যেতে চাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমাদের এক একটা ট্রলারে প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকার মালামাল থাকে। জলদস্যুরা ধরলে একেবারে নিংস্ব করে দেয় আমাদের। প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার অনুরোধ রইল।
সমুদ্রে জলদস্যুদের উৎপাতের সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী কোস্টগার্ড আন্দারমানিক স্টেশন কন্টিজেন্টাল কমান্ডার আজহারুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রে জলদস্যুদের উৎপাত কিছুটা বেড়েছে। বারবার বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে তৎপর হয়েছে জলদস্যুরা। সমুদ্র নিরাপদ রাখতে পুলিশ, র্যাব,নৌবাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ডও কাজ করে যাচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়রা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, শুধু টহল দিয়ে জলদস্যুদের দমানো যাবেনা। জেলেদের একটি আধুনিক মনিটরিং সিস্টেমের ভিতরে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। পুরোপুরি এই সিস্টামে নিয়ে আসতে পারলে জলদস্যুদের তাণ্ডব অনেকাংশে কমে যাবে।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিবন্ধিত প্রায় ১৮ হাজার ৩০৫ জন জেলে রয়েছে। এর বাইরেও কয়েক হাজার মানুষ মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
কে