দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অপরাধ দমন, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি পয়েন্টে স্থাপন করা এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা যানবাহন ও সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে আইনভঙ্গ শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কে বর্তমানে ১ হাজার ৪২৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পরপর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১৬টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে চলাচলকারী যানবাহন শনাক্তের পাশাপাশি সন্দেহজনক যানবাহনের তথ্যও দ্রুত হাইওয়ে পুলিশের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। মাদক চোরাচালান বা অন্য কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি থামিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও এসব তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের সার্জেন্ট মো. সবুজ মিয়া বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের কাগজপত্রের মেয়াদসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিআরটিএর ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্র শনাক্ত করা গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএস ও নোটিশ পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকবে। পরে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
আগামী মঙ্গলবার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করার কার্যক্রম শুরু হলে মহাসড়কে যানবাহনের আইনভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, আধুনিক এই নজরদারি ব্যবস্থা পুলিশের কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে। বিশেষ করে ডাকাতি, মাদক পরিবহন, চোরাচালানসহ মহাসড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে এআই ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মহাসড়কে চলাচলকারী চালকরাও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে মাদক কারবারি, চোরাচালানকারীসহ অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়বে।
এমএম/