দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনীয়া বালিকা দাখিল মাদরাসায় ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২২ শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে পাঠদানের জন্য কোনো শ্রেণিকক্ষও নেই।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কোনো সাইনবোর্ড বা ভবন নেই। মাদরাসার ভিটেমাটি ও মাঠে স্থানীয়দের গরু ঘাস খাচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় সেখানে দুটি ঘর থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে মাদরাসাটির কোনো কার্যক্রম নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা সোবহান মিয়া বলেন, একসময় এখানে দুটি ঘর ছিল। এখন সেগুলোর কিছুই নেই। মাঝেমধ্যে দু-একজন এসে জায়গাটি দেখে যান। এলাকায় বালিকা মাদরাসাটি চালু হলে ভালো হবে। মাদরাসাটির যথাযথ কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি।
মাদরাসাটির সুপার মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে নিজেদের খরচে উপজেলার একমাত্র বালিকা মাদরাসাটি পরিচালনা করছেন তারা।
শ্রেণিকক্ষ না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বারবার আবেদন করেও এমপিওভুক্তি না হওয়ায় শিক্ষকেরাও হতাশ। জীবিকার তাগিদে অনেকেই ভিন্ন কাজ করছেন। এ কারণে একসময় মাদরাসার ঘরগুলোও ভেঙে গেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র পড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সাল থেকে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা মোটামুটি ভালো ফল করে আসছিল। তবে এবার হঠাৎ করে ২২ জন ছাত্রীই অকৃতকার্য হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন গণিতে ফেল করেছে। আগামীতে গণিত বিষয়ে আরও জোর দেওয়া হবে।
সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক জিহাদ হাসান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আশায় শুরুতে অনেক আগ্রহ নিয়ে কার্যক্রম চালালেও পরবর্তী সময়ে একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দেয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদাসীনতার কারণেই ভবন না থাকা প্রতিষ্ঠানও কাগজে-কলমে বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে আছে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান বলেন, এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে অপ্রত্যাশিতভাবে শেরপুর জেলার ফল খারাপ হয়েছে। যেসব মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেগুলোর বেশিরভাগই নন-এমপিওভুক্ত এবং এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পড়াশোনা করানো হয় না। আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমএস/