দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। নন-এমপিওভুক্ত এ মাদ্রাসার এমন ফলাফলে পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নেছারাবাদ উপজেলার ২১টি মাদ্রাসা থেকে ৫৪৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০৯ জন। উপজেলায় গড় পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন। তবে আটটি মাদ্রাসার পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।
এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। মাদ্রাসাটিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনও করেছে।
উপজেলার আরও কয়েকটি মাদ্রাসার ফলাফলও হতাশাজনক। পাটিকেলবাড়ী দরগাহ শরীফ মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে দুজন। নেছারাবাদ মোজাদ্দেদিয়া মাদ্রাসায় ১১ জনের মধ্যে দুজন, গাজীপুর মৈশানী হারুন অর রশিদ ফাজিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে পাঁচজন, বিন্না নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জনের মধ্যে সাতজন এবং আউরিয়া হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩৪ জনের মধ্যে নয়জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া মাহমুদকাঠি দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১২ জন, হজরত রাবেয়া বসরি (রহ.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জনের মধ্যে পাঁচজন এবং গুয়ারেখা রাব্বানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে সাতজন পাস করেছে।
পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসার ফলাফলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অভিভাবক মাহমুদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান ও উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং একাডেমিক তদারকি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো নন-এমপিওভুক্ত। এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। এর সুনির্দিষ্ট কারণ তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।
তিনি বলেন, মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন হয় না। এ কারণে কখনো কখনো শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকতেন। ফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ফলাফল খারাপ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়ে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে।
এমএম/