দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নিজস্ব ভবনটি দীর্ঘদিনের অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ইট, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় গর্ত, আবার ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ীভাবে চলছে ক্লিনিকটির কার্যক্রম।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণ করে সেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরেই কাজ শুরু হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নির্মিত খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। কোথাও দেয়াল ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের ভেতরে পড়ে আছে ভাঙা ইট ও নির্মাণসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ। নিচের অংশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ভবনটিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল ছিল। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা নিতে দূরে যেতে হতো না। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় সেফাত হোসেনের একটি ভাড়া বাড়িতে ক্লিনিকটির কার্যক্রম চলছে। এতে স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারাও নানা সমস্যায় পড়ছেন। ক্লিনিক পরিচালনায় ভাড়া বাবদ অর্থও ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় সাগর, মোরশেদাসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় ভাড়া বাড়িতে সেবা নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চললেও স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তারা দ্রুত জরাজীর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান। এতে এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে মনে করেন তারা।
ক্লিনিকটির দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) শহিদুল বলেন, তিনি দেড় বছর ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময় ধরে ক্লিনিকের কার্যক্রম ভাড়া বাড়িতেই চলছে। তবে ভাড়ার পরিমাণ সম্পর্কে তিনি জানেন না।
ক্লিনিকটির কার্যক্রম ভাড়া বাড়িতে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. কে এইচ এম ইফতেখারুল আলম খান। তিনি বলেন, খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উপজেলায় পুনর্নির্মাণের জন্য তালিকাভুক্ত সাতটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে খাগড়া ক্লিনিকটি অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরেই এর পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এমএস/