দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুনামগঞ্জে সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রেস্ট হাউজ দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক বাসা হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সুনামগঞ্জে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় চার বছর ধরে তিনি সরকারি রেস্ট হাউজেই বসবাস করছেন। তবে সেখানে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল অনুমোদনের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানা নেই। এমনকি রেস্ট হাউজের রেজিস্টারেও তাঁর নাম নিয়মিত এন্ট্রি করা হয় না এবং কোনো ভাড়াও পরিশোধ করা হয় না বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।
দেশ টিভির অনুসন্ধানে সরকারি রেস্ট হাউজে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের দীর্ঘদিন অবস্থান, রেজিস্টারে নাম না থাকা এবং ভাড়া পরিশোধ না করার বিষয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (অ.দা.) প্রবীর কুমার গোস্বামীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে তাঁদের দপ্তর থেকে কোনো অফিসিয়াল অনুমোদনও দেওয়া হয়নি।
প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। আমাদের অফিসিয়াল কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদি এমনটি হয়ে থাকে, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।
তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। অন্য নির্বাহী প্রকৌশলীরও বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা উচিত।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পর সরকারি রেস্ট হাউজে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের দীর্ঘদিন অবস্থানের অনুমোদন ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি বিধান অনুযায়ী রেস্ট হাউজে সাত দিনের বেশি থাকার কোনো নিয়ম নেই। তাঁর ভাষ্য, আমাদের পোস্টিং যেহেতু সুনামগঞ্জে, বাসা নিয়ে থাকতে হবে। সরকারি রেস্ট হাউজে দীর্ঘদিন থাকার সুযোগ নেই।
রেস্ট হাউজের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় পরিচালক জাকির হোসেনের কাছেও বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনিও সরকারি রেস্ট হাউজে দীর্ঘদিন থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান।
রেস্ট হাউজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসও দিলীপ বলেন, স্যার কিভাবে থাকেন, আমার জানা নেই। আমি দুই বছর যাবত রেস্ট হাউজের দায়িত্বে আছি। আমি দেখে আসছি, তিনি রেস্ট হাউজেই থাকেন। আলাদা কোনো বাসা ভাড়া নেননি।
রেস্ট হাউজের বাবুর্চিও প্রায় একই ধরনের তথ্য দেন। তাঁর দাবি, তিনি ২০১৮ সাল থেকে সেখানে কর্মরত এবং প্রায় চার বছর ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারকে রেস্ট হাউজে থাকতে দেখছেন।
বাবুর্চির ভাষ্য, স্যার কোনো ভাড়া দেন না। খাতায় স্যারের কোনো নাম এন্ট্রি হয় না।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্য নথিপত্র যাচাই ছাড়া চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রেস্ট হাউজের রেজিস্টার, ভাড়া আদায়ের হিসাব, কক্ষ বরাদ্দের নথি এবং কোনো বিশেষ অনুমোদন বা ছাড় দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব নথি পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩০ অক্টোবর ২০২৪ সালের বিজ্ঞপ্তিতে জেলা পর্যায়ের সার্কিট হাউজের কক্ষ ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভাড়া আদায়ের বিধান রয়েছে।
সে হিসাবে প্রায় চার বছর ধরে অবস্থানের অভিযোগ সত্য হলে সরকারি রাজস্বের বড় অঙ্কের অর্থ পাওনা হওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য কতদিন অবস্থান করা হয়েছে, কোন শ্রেণির কক্ষে থাকা হয়েছে, প্রযোজ্য ভাড়ার হার কত ছিল এবং কোনো অনুমোদন বা ছাড় ছিল কি না—এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক আমির হোসেন বলেন, সরকারি অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন সরকারি রেস্ট হাউজে থাকা ক্ষমতার অপব্যবহার। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। দীর্ঘদিন থাকার অনুমোদন থাকলে সেটির নথি প্রকাশ করা হোক, আর অনুমোদন না থাকলে কেন এতদিন সেখানে থাকা হলো এবং সরকারি রাজস্বের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (অ.দা.) প্রবীর কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের অফিসিয়াল অনুমোদনের আওতায় নেই এবং ঘটনা সত্য হলে তদন্ত করে দেখা হবে।
ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—কোন অনুমোদন বা ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায় চার বছর ধরে সরকারি রেস্ট হাউজে অবস্থান করছেন? কেন তাঁর নামে নিয়মিত রেজিস্টার এন্ট্রি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে? সত্যিই যদি কোনো ভাড়া পরিশোধ করা না হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি কোষাগারে এ বাবদ কোনো অর্থ জমা হয়েছে কি না?
সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের নিয়ম লঙ্ঘন এবং আর্থিক অনিয়মের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
এমএস/