দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার নথি জালিয়াতি, ভুয়া চার্জশিট দাখিল, জাল স্বাক্ষর ও ১৬১ ধারায় মিথ্যা জবানবন্দি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আসামিপক্ষকে সুবিধা দিতে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ করেছেন এক সাংবাদিক। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং তাঁর তদন্ত করা আগের মামলাগুলোর নথি পুনঃপর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজারহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম। তিনি রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দৈনিক ইত্তেফাকের উপজেলা প্রতিনিধি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম বলেন, গত ২৭ মার্চ তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় একই দিন রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ১৭ এবং তারিখ ২৭ মার্চ ২০২৬। মামলায় রাজারহাট উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আনিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আনিছ ও তাঁর সহযোগীদের আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আতিকুল ইসলাম।
আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছেন। মামলার বাদী এবং এজাহারভুক্ত চারজন প্রধান সাক্ষী, গোলাম রব্বানী, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোস্তাক আহমেদ ও রেজাউল করিমের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ কিংবা তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ না করেই ১৬১ ধারায় ভুয়া জবানবন্দি তৈরি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাদী ও সাক্ষীদের না জানিয়ে মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে মামলাটির একটি দুর্বল চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়। এর মাধ্যমে আসামিদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে কোনো সদুত্তর দেননি। একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলার তদন্তে এমন অনিয়মের অভিযোগ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ২৩ জুলাই কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আরিফুল ইসলাম। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে এএসপি (সার্কেল) অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত এসআই আতিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এসআই আতিকুল ইসলামের দাখিল করা চার্জশিটের বিষয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষভাবে পুনঃতদন্তের নির্দেশ, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে তদন্ত হওয়া পূর্ববর্তী মামলাগুলোর নথি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়।
কেএম