দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সংরক্ষিত পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সংরক্ষণাগারে ব্যবহৃত এয়ার ফ্লু মেশিন বন্ধ থাকছে। এতে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও বায়ু চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পেঁয়াজে পচন ধরছে।
কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জেলার বিভিন্ন সংরক্ষণাগারে থাকা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হতে পারে। এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলায় এ বছর পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমে উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে পরে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাট সেই পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, হরিরামপুর ও ঘিওরের পেঁয়াজের আলাদা সুনাম রয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব এলাকার পেঁয়াজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। দাম কম থাকায় মৌসুমে বিক্রি না করে অনেক কৃষক পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন।
কৃষি বিভাগের প্রণোদনার আওতায় দেওয়া এয়ার ফ্লু মেশিনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও বায়ু চলাচল নিশ্চিত করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংরক্ষণাগারে পেঁয়াজের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।
তাদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সংরক্ষণাগারে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা হলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে ৮ হাজার ৭৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছেন কৃষকরা। সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৩০০ কৃষককে এয়ার ফ্লু মেশিন দেওয়া হয়েছে।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহজাহান সিরাজ বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এয়ার ফ্লু মেশিন চালাতে সমস্যা হলে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রণোদনার আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যে আই