দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে চেল্লাখালী নদীর পানি একপর্যায়ে বিপদসীমা অতিক্রম করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে শেরপুরের পাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময়ে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে সকালে বিপদসীমার ৩৭৭ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বিকেলে তা বেড়ে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছায়। নালিতাবাড়ী পয়েন্টেও সকালে বিপদসীমার ২৮৮ সেন্টিমিটার নিচে থাকা পানি সন্ধ্যার দিকে বেড়ে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যায়।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, মেঘালয় অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের পানি নেমে এসে নদ-নদীর পানি বেড়েছিল। তবে বৃষ্টিপাত কমে আসায় পানিও দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ৭২ ঘণ্টার সতর্কতা শেষ হয়েছে এবং নতুন করে বন্যার কোনো সতর্কতা নেই। শেরপুরে সাধারণত পানি দ্রুত নেমে যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর পয়েন্টে ৮ দশমিক ৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৪২ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। বর্তমানে জেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি পরিদর্শনে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর মোহনা এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
যে আই