দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ও জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আত্মসমর্পণের পর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ আদেশ দেন।
আবু বকর ছিদ্দিক লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন। তিনি ওই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকর ছিদ্দিক। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, সালেহা বেগমের সঙ্গে তার গোপনে বিয়ে হয়েছিল। পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে হত্যা করানো হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে কমলনগর থানা পুলিশ তদন্ত করে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সেলিম হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, আবু বকর ছিদ্দিকের সঙ্গে সালেহা বেগমের গোপনে বিয়ে হয়েছিল এবং অর্থসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবু বকর তাকে হত্যার জন্য ভাড়া করেছিলেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
মামলার অপর আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর ছিদ্দিক পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
নিহত সালেহা বেগমের ছেলে মো. শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অর্থসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের মাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ এবং সহ-আসামির জবানবন্দিতে উত্থাপিত দাবির বিষয়ে আবু বকর ছিদ্দিকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এমএম/