দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এক শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিয়োগ ও এমপিও-সংক্রান্ত নথিপত্র তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মো. মহিউদ্দিন জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ছিল ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ছিল ৪৬০৬। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়।
এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন (পিতা: আছমত আলী মহাজন), যার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২, তাকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে বিধিবহির্ভূতভাবে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নামের মিলকে কাজে লাগিয়ে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও জুনিয়র শিক্ষক পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের এমপিও তালিকা থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে মৃত শিক্ষক মহিউদ্দিনের ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬ উল্লেখ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, "এমপিও শিটে ৪৬০৬ নম্বর হিসাব উল্লেখ থাকলেও ওই হিসাব থেকে আমি কোনো বেতন উত্তোলন করিনি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।" তিনি জানান, রূপালী ব্যাংক তজুমদ্দিন শাখায় তার ব্যক্তিগত হিসাব রয়েছে। তবে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে তার ব্যক্তিগত হিসাব নম্বরসংবলিত এমপিও কপির কোনো নথি তিনি দেখাতে পারেননি।
মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে ৪৬০৬ নম্বর হিসাবেই সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে। বিষয়টি জানার পর হিসাব সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
যে আই