দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বরিশাল মহানগরীর উদ্যোগে শনিবার (১ আগস্ট) নগরীতে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল মহানগরীর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় ছাত্র-জনতা, তরুণ, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে পুলিশ অফিসার বলছিলো একটা মারলে শুধু একটাই যায়, গুলির সামনে দাড়িয়ে যাওয়া সেই যুবকদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে যদি পুরোনো ধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা অব্যাহত থাকে, তবে তা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে সেই প্রত্যাশা ব্যাহত হচ্ছে বলে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে প্রদত্ত জনগণের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভাষা ও প্রত্যাশা অনুধাবন করতে হবে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনমূলক পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকার নৈতিক ভিত্তি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের গত কয়েক মাসের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে যে, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার, আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য শামীম কবির, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা শফিউল্লাহ তালুকদার, কাউনিয়া থানা আমীর মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ী বিভাগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার ও ছাত্রশিবিরের বরিশাল জেলা সভাপতি সাইয়েদ আহমেদসহ মহানগর জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর করা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে টাউন হল চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সদর রোড, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, গির্জা মহল্লাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে পুনরায় টাউন হল চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কে