দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কর্ণফুলী টানেল সংযোগ চত্বরে বাসচাপায় দুই নারী গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার নানা ঘাটতি সামনে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ ও জরুরি সেবার কার্যকর উপস্থিতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৮টার দিকে টানেল থেকে বেরিয়ে আসা একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপেক্ষমাণ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। পরে বাসটি সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে।
দুর্ঘটনায় বারখাইন ইউনিয়নের ঝিউরি এলাকার কেএসআই গার্মেন্টসের দুই শ্রমিক পলি দত্ত (৩০) ও ইফা শীল (৪০) নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩০ জন। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, টানেল মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স থাকলেও সেখানে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে প্রায়ই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
আহত ফোরকান উদ্দিন বলেন, টানেল মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো এবং এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। আহত হৃদয় দাশের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রাই উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন; গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে আরও উন্নত জরুরি সেবার ব্যবস্থা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়েও অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেতেও তারা নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনবল ও প্রস্তুতির ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, কর্ণফুলী টানেল সংযোগ চত্বরে ২৪ ঘণ্টা ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স চালক নিশ্চিত করা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
যে আই