দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের মুম্বাই থেকে আটক করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শাহিদা ফকির (পিতার নাম: মোহাম্মদ আমিনুদ্দিন গাজী) নামে এক ভারতীয় নারী। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামে স্থানীয় এক পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন।
শাহিদা ফকির দাবি করেন, তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার গোবিন্দপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। গত প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন।
তার ভাষ্য, চলতি মাসের ১৮ বা ১৯ তারিখ রাতে মুম্বাইয়ের একটি স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভারতীয় সিআইডি পরিচয়ে ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল তাকে আটক করে। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় ভারতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে থাকলেও তা দেখতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শাহিদা বলেন, আটকের পর তাকে কোনো ধরনের যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন রাখা হয়। এ সময় স্বজনরা পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে গেলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পরে বিমানে করে তাকে আসাম সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, কয়েকজনকে একসঙ্গে সীমান্ত পার করানোর পর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় একপর্যায়ে তিনি বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।
শাহিদা আরও বলেন, তার স্বামী শ্বশুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনার প্রায় এক মাস আগে মুম্বাই থেকে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে চলে যান। বর্তমানে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ভারতে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার গোবিন্দপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। আমার দুই সন্তান ভারতে আছে। আমি অবিলম্বে আমার নিজ দেশে এবং সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চাই।
শাহিদাকে আশ্রয় দেওয়া ভাদিয়ালি গ্রামের গৃহবধূ আরিফা বেগম বলেন, তার স্বামী আবুল বাশার ভারত থেকে ফেরার পথে বেনাপোলে কাদামাটি মাখা, ছেঁড়া পোশাক পরা এবং অসুস্থ অবস্থায় কান্নারত ওই নারীকে দেখতে পান।
তিনি বলেন, মানবিক কারণে আমার স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি আমাদের বাড়িতেই আছেন। তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তিনি বারবার বলছিলেন, ভারতে তার ছোট সন্তান রয়েছে এবং দেশে ফিরে যেতে চান।
আরিফা বেগম জানান, বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তারা সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই নারীকে নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ভারত থেকে আসা এক নারী ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন বলে তিনি খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তার ধারণা, স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে নয়, ভারতের অন্য কোনো সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়েছে।
সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরে জানাবেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই