দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুম ভাঙে হৃদয় শেখের। স্কুলে যাওয়ার বয়সে তার হাতে বই-খাতার বদলে উঠে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের হ্যান্ডেল। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। সেই আয় থেকেই কিনতে হয় কিডনি রোগে আক্রান্ত বাবার ওষুধ। সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক সময় নিজের চিকিৎসাও করাতে পারেন না তিনি।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌদুয়ার গ্রামের সুজাব আলী ও আমিনা বেগম দম্পতির ১৬ বছর বয়সী ছেলে হৃদয় শেখ। পরিবারে বাবা-মা ছাড়াও রয়েছে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া ছোট বোন সুরভী এবং চার বছরের এক ভাই। বাবা সুজাব আলী গত ছয় বছর ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। হৃদয় নিজেও কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত।
শনিবার পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দেড় শতাংশ জমির ওপর একটি ছোট টিনের ঘরে বসবাস তাদের। ঘরের ভেতরে সামান্য কিছু আসবাবপত্র। একটি পুরোনো চৌকিতে শুয়ে ছিলেন অসুস্থ সুজাব আলী। পাশে বসে ছিলেন ছেলে হৃদয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখেও ছিল অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার ছাপ।
হৃদয় শেখ বলেন, ১০ বছর বয়স থেকেই তিনি ভ্যান চালাচ্ছেন। বর্তমানে বাবার প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকার ওষুধ লাগে। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, আমিও অসুস্থ। তবু গাড়ি চালাতেই হয়। না চালালে সংসার চলবে না। ছোট বোনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে, বাবার ওষুধও কেনা হবে না। এখন আর পারছি না। সরকারের সহযোগিতা চাই।
সুজাব আলী বলেন, অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। এখন পুরো পরিবার ছেলের আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, আমি কিডনির রোগী, ছেলেও অসুস্থ। চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।
হৃদয়ের মা আমিনা বেগম বলেন, ছোট বয়স থেকেই ছেলে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। অসুস্থতার কারণে তার পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন মেয়ের লেখাপড়া ও ছোট ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তিনি।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তারা জানান, পরিবারটি কারও কাছে সাহায্য চাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি বা সমাজের বিত্তবান মানুষের সহায়তা পেলে পরিবারটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
সংসারের দায়িত্ব, বাবার চিকিৎসা, নিজের অসুস্থতা এবং ছোট ভাই-বোনের ভবিষ্যতের চিন্তা সব মিলিয়ে ১৬ বছর বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে হৃদয় শেখ। তার প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে বাবার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা, বোনের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া এবং ছোট ভাইয়ের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
যে আই