দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের মালুহার এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকার এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এবং প্রায় পুরো বিল পরিশোধের অল্প সময়ের মধ্যেই কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালভার্টের উভয় প্রান্তের সংযোগ সড়কের ইটের সলিং দেবে গিয়ে ইটগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় যথাযথভাবে মাটি ভরাট ও কম্প্যাকশন করা হয়নি। পাশাপাশি কালভার্টের কিছু অংশে প্রয়োজনীয় প্লাস্টার ও ফিনিশিংয়ের কাজ সম্পন্ন না করেই রং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিএডিসির ঝালকাঠি জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালভার্টটি নির্মাণে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মার্চে কাজ শুরু হয়ে জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটির বিপরীতে ইতোমধ্যে ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিনাজপুরের রামনগরের তারমিন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সাব-ঠিকাদার হিসেবে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসানকে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম, আবু, হানিফ ও রহিমসহ কয়েকজন বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি অবকাঠামো অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নির্মাণকাজের নিম্নমান ও তদারকির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তারা প্রকল্পটির নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়ক টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিএডিসি ঝালকাঠির সহকারী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কী কারণে এমন হয়েছে তা তদন্ত করা হবে। নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-ঠিকাদার এজাজ হাসান বলেন, কাজ যথাযথভাবেই করা হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে সংযোগ সড়কের অংশ ধসে পড়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পটির নির্মাণমান ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জে আই