দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় মৃত এক ব্যক্তির নাম ইউনিয়ন বিএনপির নবঘোষিত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও স্থান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটির চিঠি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা ও সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির ১৮ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয় রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিনের নাম।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আফাজ উদ্দিন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তার জানাজায় উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশ নেন। মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর প্রকাশিত কমিটিতে তার নাম থাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, শুধু মৃত ব্যক্তিকেই নয়, নবগঠিত কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া গত ১৭ বছরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না—এমন ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের দাবি, দলের দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে সুবিধাভোগীদের পদ দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ তদন্ত করে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান নিজের ফেসবুক আইডিতে আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারতের একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার নেতৃত্বে দলীয় নেতারা মরহুম আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেছিলেন।
মৃত আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায় পাঁচ মাস আগে মারা গেছেন। মৃত্যুর পরদিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে এসেছিলেন।’
রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সবুর উদ্দিন বিএসসি বলেন, ‘ভুলক্রমে তার নাম কমিটিতে চলে এসেছে। তিনি বিএনপির কর্মী ছিলেন। উপজেলা কমিটি যে তিনি মারা গেছেন, বিষয়টি জানত না।’
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএস/