দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা বৃষ্টিতে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা, সড়ক ও কালভার্টের ক্ষয়ক্ষতি এবং নদীভাঙন পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রকৌশল বিভাগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার এবং স্থায়ী সমাধানে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে মনোহরদী পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, সড়ক ভাঙন, কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহানের সভাপতিত্বে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং জরুরি করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে ইউএনও এম এ মুহাইমিন আল জিহান, নরসিংদী পানি উন্নয়ন বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ূন কবির, উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদসহ সংশ্লিষ্টরা উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে চালাকচর-বড়চাপা সড়কের বিভিন্ন স্থানের ভাঙন, বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামে নদীভাঙনের ঝুঁকি, কায়তেরগাঁও গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কায়তেরগাঁও-জামালপুর সড়কের ভেঙে যাওয়া কালভার্ট এবং মনোহরদী গার্লস স্কুল মোড় থেকে ড্রেনেরঘাট পর্যন্ত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করা হয়। এছাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপর প্রভাবও মূল্যায়ন করা হয়।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেখানে তাৎক্ষণিক সংস্কার সম্ভব, সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও খিদিরপুর ইউনিয়নের প্রশাসক মো. সজিব মিয়া খিদিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাবদ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুর্যোগের সময়ে প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ এবং রাজনৈতিক নেতাদের একসঙ্গে মাঠে দেখতে পেয়ে তারা আশাবাদী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে জনদুর্ভোগ কমে আসে।
এমএস/